নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসরাইল, রাশিয়া এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান মিলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ধ্বংসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি তাদের ‘লোভী শিকারি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং তাদের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড লিখেছেন, এমন একটি বৈশ্বিক পরিবেশ যেখানে আদিম হিংস্রতা বিকশিত হতে পারে, তা দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এমন সব নীতিগত পরিবর্তন দেখা গেছে, যা হলোকাস্ট এবং বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা থেকে অনেকটা সরে গেছে। গত ৮০ বছরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সে ব্যবস্থা এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মহাসচিব আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ‘নির্মম সহিংসতা’ বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সোমবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যালামার্ড বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ সরকারই এসব ‘শিকারির’ মোকাবিলা করার পরিবর্তে তাদের তোষণ করতে আগ্রহী। এমনকি কেউ কেউ দুর্বৃত্ত ও লুটেরাদের অনুকরণ করার কথাও ভেবেছিল।
তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বব্যবস্থায় ‘অত্যন্ত নাটকীয় প্রভাব’ ফেলেছেন এবং তাদের আচরণ অন্য নেতাদেরও একই ধরনের পথে চলতে উৎসাহিত করছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অনুকরণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে এবং আমরা এখন যা মোকাবিলা করছি তা তিন-চার বছর আগের পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও ভয়ংকর।
বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী কার্যকলাপ তীব্রতর হয়েছে। ফলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অ্যামনেস্টির পর্যালোচনাটি বেশ উদ্বেগজনক, যেখানে বেশিরভাগ দেশেই মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ‘কর্তৃত্ববাদী নীতি ও দমনমূলক আচরণ বেড়েছে’ এবং বিভিন্ন দেশে মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত বাড়ছে।